মুলোর উপকারিতা


মূলো


আমরা সবাই জানি আমরা প্রতিদিন যেসব সকসব্জী খায় তার মধ্যে অনেক এমন গুণ আছে  যা আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে ও শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। সুস্থ থাকতে খাওয়া দাওয়ায় শাক-সব্জীর ভূমিকা অসীম।  সুলভ ও সস্তা শাক সব্জী শরীর কে সুস্থ রাখে সেই সঙ্গে যদি কোনো কারণে শারীরিক অসুবিধা বা অসুস্থতা দেখা দেয় , তাহলে নির্দেশ অনুসারে এগুলোর প্রয়োগেও  রোগ সারে। তবে আমার অনেকে জানি না কোন সব্জীর কোন গুণ আছে । তাই আমার বিভিন্ন আয়ুরবেদিক বই, নিউজ প্রতিবেদন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে  এখানে দিলাম । ...

জেনে নিন মুলোর নানাবিধ উপকারিতা

অনেকেই বেশ কিছু কারণে মুলাকে এড়িয়ে যান। সারাবছরই অল্প বিস্তর পাওয়া গেলেও শীতকালেই সহজলভ্য হয়ে ওঠে এটি। কিন্তু কিছুতেই যেন সর্বসাধারণের মন জয় করতে পারেনি। তবে নিচের উপকারিতগুলি যদি একবার কেউ জানতে পারে তাহলে বাজারের তালিকা থেকে কখনোই বাদ পড়বে না এটি।
 

👉 প্রস্রাবের সমস্যা দূর:-  মুলো প্রস্রাবের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। আসলে মুলো প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীরের বিষাক্ত উপাদান, তরল বর্জ্য হিসাবে বের করে দিতে পারে। এর ফলে কিডনি সুস্থ থাকে এবং মুত্রথলির যে কোনও সমস্যা কমতে শুরু করে। এছাড়াও মুত্রথলিতে প্রদাহ জনিত সমস্যা এবং প্রসাবের সময় জ্বালা অনুভূত হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে।

👉 ওজন কমাবে:-  মুলো এমন একটি উপাদান, যা অল্প খেলে পেট সম্পূর্ণভাবে ভরে যায়। ফলে আজেবাজে জিনিস খেয়ে পেট ভরানোর আর কোনও উপায় থাকে না। এতে অতিরিক্ত ক্যালরিও শরীরে প্রবেশ করতে পারে না। মুলোর মধ্যে জলীয় উপাদানের মাত্রা খুবই বেশি থাকে। একইসঙ্গে থাকে কার্বোহাইড্রেট এবং রাফেজ। যার ফলে, যারা ওজন কমাতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য মুলা খুবই কার্যকরি একটি উপাদান। এছাড়াও মুলোর মধ্যে আছে ফাইবার, যা শরীর থেকে বর্জ্য বার করে দিতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, পাচন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে শরীরে সুস্থ এবং সবল রাখতে পারে।

👉 হার্টকে ভাল রাখে :- মুলোর তো অনেকরকম রঙ হয়। এই রঙের পেছনে কারণ হল, মুলোর মধ্যে থাকা অ্যান্থোকায়োনিন। এই অ্যান্থোকায়োনিন আসলে এক ধরণের ফ্ল্যাবোনয়েড। এই উপাদানটির বহু স্বাস্থ্যকর দিকও রয়েছে। যেমন বহু গবেষণায় উঠে এসেছে মুলোর মাধ্যমে হার্টের যে কোনও সমস্যা দূর করা যায়। এছাড়াও, এই উপাদানটি ক্যান্সার এবং প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করতে পারে।

👉 ক্যান্সার রোধ করে :- মুলোর মধ্যে নানা উপকারি উপাদান রয়েছে, যেমন- অ্যান্থোকায়োনিন, ভিটামিন সি এবং ফলিক অ্যাসিড। এই উপাদানগুলি নানারকম ক্যান্সার, যেমন, কোলোন, কিডনি, অন্ত্র, পেট এবং মুখের ক্যান্সার রোধ করতে পারে। এছাড়াও, মুলোর মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এর ফলে, ক্যান্সারের কোষ গড়ে ওঠা প্রতিহত হয় এবং ভাল কোষ তৈরি হতে সাহায্য করে।

👉 হজম শক্তি বাড়াতে পারে :- মুলোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যার ফলে, পেটের কাজ সুদৃঢ় হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়। এছাড়াও, আমাশয় বা ডায়ারিয়ার সমস্যা দূর করতে পারে। এছাড়াও, লিভার এবং গলব্ল্যাডারকে ভাল রাখতে পারে। এর কারণ, মুলো খেলে হজম ভাল হয় এবং শরীর সুস্থ থাকে। মুক্তি পাওয়া যায় পেটের নানারকম সমস্যা থেকেও।

👉 শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা দূর:- নানা কারণে আমাদের শ্বাস প্রশ্বাস পদ্ধতিতে সমস্যা হতে পারে। যেমন, ঠাণ্ডা লেগে যাওয়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া বা সর্দি লাগা, গলা ব্যাথা বা ফুলে যাওয়া, ফুসফুসে সংক্রমণ, কোনও রকম অ্যালার্জি এবং আরও নানা কারণ থাকে। মুলার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন থাকায়, এই ধরণের সমস্যাগুলি সহজে শরীরকে কাবু করতে পারে না। ফলে, শরীর শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যাও দূর হয়।

👉 রক্তচাপ সঠিক রাখতে :- মুলোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। এর ফলে মুলা শরীরের জন্য খুবই উপকারি একটি উপাদান। পটাশিয়ামের একটি মূল কাজ হল রক্তচাপকে সঠিক রাখা। এটি রক্তনালীর কাজকে সুচারুভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে এবং রক্তকে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে সাহায্য করে।

👉 ডায়াবেটিস রোধ করে :- মুলোর মধ্যে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুব কম। এরফলে, মুলা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কখনোই বৃদ্ধি পায় না। এছাড়া, রক্তে শর্করাকে মিশে যেতেও সাহায্য করে মুলো। ফলে রক্তে কখনোই সুগারের মাত্রা বেশি হয় না। উল্টে রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রেখে শরীরকে সুস্থ রাখতে পারে মুলো।

👉 ত্বকের যত্নে :- ত্বকের যত্নে মুলা দারুণ উপকারি। কারণ, মুলোর মধ্যে ভিটামিন সি, ফসফরাস, জিঙ্ক এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকে। অন্যদিকে মুলোর মধ্যেকার জলীয় উপাদান ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফেসপ্যাক হিসাবেও মুল মুখে ব্যবহার করা যেতে পারে। এরফলে, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ব্রণ, ত্বক ফেটে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

👉 জ্বরের প্রকোপ কমায় :- শীতকালে অনেকেরই ঠাণ্ডা লেগে জ্বর আসে। এছাড়াও, জ্বরের সঙ্গে শরীর কাবু করে দেয় প্রদাহজনিত সমস্যা। এইধরনের সমস্যা মূলত হয় ধুলো, ঠাণ্ডা বা বিভিন্ন সংক্রমণের জন্য। এইসময় মুলোর রস, বিট নুন দিয়ে পান করলে জীবাণু এবং সংক্রমণ দূর হয়। ফলে জ্বর, সর্দি এগুলি দূরে পালায়।

মুলোর চেয়ে মুলোর শাকেরই  গুণ বেশি। মুলোর শাক  সহজে হজম হয় ও খাওয়া দাওয়া রুচি বাড়ায় ।
মুলোর শাক কাঁচা ৩০ - ৩৫  দিন খেলে পিও বৃদ্ধি পায় । 

😍 সুস্থ থাকতে মুলোর প্রয়োগ

👌 শুকনো মুলোর ঝোল রান্না করে এক ঘন্টা অন্তর আধকাপ করে ১ মাস গরম গরম পান করালে খিচুনি  সারে । 

👌 দুপুর বা রাত্তিরের গুরু-পাক  ভোজনের পরে মূলোর রস  পাতিলেবুর রস মিশিয়ে ২ -৩ মাস খেলে পেটের ব্যথা ও গ্যাস কমে য়ায় । 

👌 মুলো আর তিল একসঙ্গে মিশিয়ে ২৫ - ৩০  দিন খেলে শরীর- ফোলা কমে আর যদি ত্বকের নিচে কোন কারণে  জল জমে তাও সেরে  যায়।  মূলোর  পাতার ৫/৬ চামচ রস খাওয়ালেও ফুলো  তাড়াতাড়ি কমে যায় । 

👌 শুকনো মুলোর সূপ খাওয়ালে এবং শুকনো মূলো  একটা কাপড়ের পুঁটলিতে বেঁধে তার সেক দিলেও অর্শের কষ্টে আরাম পাওয়া যায়। 

👌 মূলো পাতার রসে একটু সোডি - বাই - কার্ব মিশিয়ে ১ মাস খাওয়ালে প্রস্রাব পরিষ্কার হয়। 

👌 মূলো পাতার রসে সোরা মিশিয়ে ২  মাস  খাওয়ালে পাথুরি সারে । 

👌 আট চা চামচ মূলোর বীজ অধ লিটার জলে ফুটিয়ে নিয়ে  জল কমে অর্ধেক হয়ে গেলে সেই জল 
4-8  সপ্তাহ পান করলেও পাথরি রোগ (কিডনি বা গলব্লাডারের পাথর ) সরে ।।।  




No comments

Powered by Blogger.